Yojana

জয় বাংলা পেনশন প্রকল্প 2023: আবেদন পদ্ধতি, যোগ্যতা এবং সুবিধা|WB Jai Bangla Pension Scheme

জয় বাংলা পেনশন প্রকল্প, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জয় বাংলা পেনশন প্রকল্প, পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রকল্প, জয় বাংলা পেনশন প্রকল্পের আবেদন পদ্ধতি, জয় বাংলা পেনশন প্রকল্পের যোগ্যতা, জয় বাংলা পেনশন প্রকল্পের সুবিধা, জয় বাংলা পেনশন প্রকল্পের সুবিধাভোগী (WB Jai Bangla Pension Scheme, Jai Bangla Pension Scheme, WB Govt. Scheme, Jai Bangla Pension Scheme Application Process, Eligibility, Benefits).

Jai Bangla pension scheme
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জয় বাংলা পেনশন প্রকল্প

পশ্চিমবঙ্গ সরকার পশ্চিমবঙ্গের সকল দারিদ্র মানুষকে আর্থিকভাবে সাহায্য করার জন্য একটি প্রকল্পের শুরু করেন যার নাম পশ্চিমবঙ্গ জয় বাংলা পেনশন প্রকল্প। এই নিবন্ধে আমরা এই প্রকল্পের সাথে জড়িত সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং সুবিধাগুলি আলোচনা করেছি। আমরা ধাপে ধাপে আলোচনা করেছি আপনি কিভাবে এই জয় বাংলা পেনশন প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এছাড়াও আমরা এই প্রকল্পের জন্য কারা আবেদন করতে পারবে এবং কি কি ডকুমেন্টসের প্রয়োজন আবেদন করার জন্য এই সবই আলোচনা করেছি।

জয় বাংলা পেনশন প্রকল্পের হাইলাইট তথ্য (WB Jai Bangla Pension Scheme Details Highlight)

প্রকল্পের নাম জয় বাংলা পেনশন
প্রকল্পটি কে শুরু করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমুন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী
প্রকল্পটি কবে শুরু হয় 2020 সালের 1 এপ্রিল
কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন পশ্চিমবঙ্গের 60 বছরের উপরের SC/ST বাসিন্দারা
এই প্রকল্পের কি সুবিধা পাবেন মাসিক 1000 টাকা করে
অফিসিয়াল ওয়েবসাইট jaibangla.wb.gov.in

জয় বাংলা পেনশন প্রকল্প (WB Jai Bangla Pension Scheme)

পশ্চিমবঙ্গের জয় বাংলা পেনশনটি দুটি পদ্ধতিতে চালু করা হয়েছে। এই দুটি পদ্ধতিই আমাদের সমাজের সামাজিক এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণীকে উপকৃত করবে যেগুলি হলো তফসিলি জাতি (SC) এবং তফসিলি উপজাতি (ST)। তফসিলি জাতি বিভাগের জন্য যে প্রকল্পটি চালু হয়েছে সেটি তফসিলি বন্ধু স্কিম নামে পরিচিত। তফসিলি উপজাতির জন্য যে প্রকল্পটি চালু করা হয়েছে সেটি সেটি জয় জোহর প্রকল্প নামে পরিচিত। এই দুটি প্রকল্পই সমাজের বিভিন্ন জাতি এবং শ্রেণীকে উপকৃত করবে।

জয় বাংলা পেনশন প্রকল্পের সুবিধা

পশ্চিমবঙ্গ জয় বাংলা পেনশন প্রকল্পের অনেক সুবিধা রয়েছে যা পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেন। প্রথমত পশ্চিমবঙ্গ জয় বাংলা পেনশন প্রকল্পের অধিনে দুটি স্কিম রয়েছে।পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দাদের জন্য দুটি পৃথক ভাবে স্কিম চালু করা হয়েছে যা তাদের আলাদাভাবে প্রকল্পের সুবিধা পেতে সাহায্য করবে। জয় বাংলা প্রকল্পের অধীনে প্রতিটি স্কিমের জন্য আলাদা আলাদা ইন্সেন্টিভস রয়েছে যা সরাসরি সুবিধাভোগীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে।

জয় বাংলা পেনশন প্রকল্পের অধীনে সাহায্যের পরিমান

পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দাদের যে পরিমান অর্থ দিয়ে আর্থিকভাবে সাহায্য করা হবে তা নিচে দেওয়া হলো:

  • তফসিলি বন্ধু পেনশন স্কিমের অধীনে সমস্ত সুবিধাভোগীরা মাসিক 600 টাকা করে আর্থিক সাহায্য পাবে।
  • জয় জোহর পেনশন স্কিমের অধীনে সমস্ত সুবিধাভোগীরা মাসিক 1000 টাকা করে আর্থিক সাহায্য পাবে।

জয় বাংলা পেনশন প্রকল্পের যোগ্যতা

পশ্চিমবঙ্গ জয় বাংলা পেনশন প্রকল্পের যোগ্য হতে আপনাকে নিম্নলিখিত যোগ্যতার মানদণ্ড গুলি অনুসরণ করতে হবে:

  • আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
  • আবেদনকারীকে বিপিএল ক্যাটেগরিতে অন্তর্গত হতে হবে।
  • আবেদনকারীকে অবশ্যই তফসিলি জাতি (SC) অথবা তফসিলি উপজাতির (ST) অন্তর্ভুক্ত হতে হবে।
  • আবেদনকারীর বয়স 60 বছরের বেশি হতে হবে।
  • আবেদনকারীর পশ্চিমবঙ্গের অন্য কোন পেনশন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হলে হবে না।

পশ্চিমবঙ্গ জয় বাংলা পেনশন স্কিমের বৈশিষ্ট্য

  • সুবিধাভোগীরা সরাসরি তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সুবিধা পাবেন।
  • সরকার এই প্রকল্পের জন্য আলাদা পোর্টাল চালু করেছে৷
  • SC/ST-এর যে কোনো প্রার্থী যিনি বৃদ্ধ/বিধবা/PwD আবেদন করতে পারেন।
  • রাজ্যের প্রায় 21 লক্ষ মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।

লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের আবেদন পদ্ধতি, স্টেটাস চেক

পশ্চিমবঙ্গ জয় বাংলা পেনশন প্রকল্পে আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস

পশ্চিমবঙ্গ জয় বাংলা পেনশন স্কিমের জন্য আবেদন করার সময় নিম্নলিখিত নথিগুলির প্রয়োজন:

  • পাসপোর্ট ফটো (নিজের সই করা)।
  • কাস্ট সার্টিফিকেটের জেরক্স।
  • মোবাইল নম্বর
  • খাদ্য কার্ডের জেরক্স।
  • আধার কার্ডের জেরক্স।
  • ভোটার আইডি কার্ডের জেরক্স।
  • রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট (নিজের সই করা)।
  • ইনকাম সার্টিফিকেট (নিজের সই করা)।
  • ব্যাঙ্ক পাসবুকের জেরক্স।

পশ্চিমবঙ্গ জয় বাংলা পেনশন প্রকল্পে আবেদনের পদ্ধতি (WB Jai Bangla Pension Scheme Application Process)

পশ্চিমবঙ্গ জয় বাংলা পেনশন প্রকল্পে আবেদন অফলাইন পদ্ধতিতে করতে হয়। এই প্রকল্পে আবেদনের জন্য এখনো অনলাইন পদ্ধতি চালু হয়নি। এই প্রকল্পে আবেদন করার জন্য আপনাকে প্রথমে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ফর্ম ডাউনলোড করে প্রিন্ট আউট করতে হবে অথবা আপনি আপনার নিকটবর্তী সাইবার ক্যাফে (জেরক্স, অনলাইন ফর্ম ফিল আপের দোকান) থেকে পেয়ে যাবেন। এরপর ফর্মে আবেদনকারীর নাম, বয়স, বাবার নাম, মায়ের নাম, জন্ম তারিখ, ব্যাঙ্ক একাউন্ট নম্বর এবং বাকি সমস্ত তথ্য ফিলআপ করতে হবে। এরপর ফিলআপ করা ফর্মের সাথে উপরে দেওয়া প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসগুলো দিয়ে জমা করতে হবে আপনি যে ব্লকের বাসিন্দা সেই বিডিও অফিসে অথবা আপনার অঞ্চলে/পৌরসভায় আগত দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে।

পশ্চিমবঙ্গ জয় বাংলা পেনশন প্রকল্পের সুবিধাভোগী নির্বাচন করার পদ্ধতি

আপনি জয় বাংলা পেনশন প্রকল্পের ফর্ম জমা দেওয়ার পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিম্নলিখিত নির্বাচন পদ্ধতি গ্রহণ করবে:-

  • আবেদনপত্রগুলি বিডিও/এসডিও অথবা কেএমসির কমিশনার দ্বারা যথাযথভাবে যাচাই করা হবে।
  • তারা স্কিমের অধীনে আবেদনকারীদের যোগ্যতা নিশ্চিত করবে।
  • জমা করা সমস্ত যোগ্য ফর্মগুলি ডিজিটাইজড করা হবে এবং স্টেট পোর্টালে আপলোড করা হবে।
  • BDO এবং SDO রাজ্য পোর্টালের মাধ্যমে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ডিজিটালাইজড ফর্মে যোগ্য ব্যক্তিদের নাম সুপারিশ করবে।
  • জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তারপর এটি নোডাল বিভাগে পাঠাবেন।
  • নোডাল বিভাগ পেনশন মঞ্জুর করলে WBIFMS পোর্টালের মাধ্যমে সরাসরি সুবিধাভোগীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থপ্রদান করা হবে।

জয় বাংলা পেনশন প্রকল্পে আবেদন করার কতদিন পর টাকা পাওয়া যায়

এই প্রকল্পে আবেদন করার পর টাকা পেতে কতদিন সময় লাগবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কোনও তথ্য নেই। তবে আবেদন করার পর সেই আবেদন পত্রের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে। তবে আবেদন করার পর আনুমানিক দুমাস পর থেকে টাকা ঢুকে থাকে।

গুরুত্বপূর্ণ লিংক

আরও পড়ুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *